
স্টাফ রিপোর্টার: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। এখন চলছে ইট পোড়ানোর কাজ। ভাটার কালো ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভাটার চিমনির ধোঁয়া, মাটি ও ইট নিয়ে আসা যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের শব্দ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে বায়ু দূষণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ করতে ইতিপূর্বে এলাকাবাসী একাধিকবার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলেও কেনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

স্থানীয় বাসিন্দাসহ ঝুঁকিতে রয়েছে বসন্তপুর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে রয়েছে শত শত শিক্ষার্থী। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বসন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মিজানুর রহমান মধুর মালিকানাধীন এইচ.বি.আর ব্রিকস নামে ভাটাতে হাজার হাজার মন কাঠ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে কাঁচা ইট।
ইট পোড়ানোর মৌসুমে সতর্ক থাকতে হয় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। হঠাৎ বাতাসে ভেসে আসে কালোধোঁয়া। আর তখনই স্কুলের জানালা-দরজা বন্ধ করে দিতে হয়। প্রতিনিয়ত এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। সমস্যা শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরই নয়, আশপাশের বসত বাড়িতে বসবাসরত মানুষদেরও সমস্যায় পড়তে হয় ভাটায় কাঁচা ইট পোড়ানো শুরু হলে। প্রতিদিন ইট ভাটায় পোড়ানো হয় হাজার হাজার মণ কাঠ। যা রীতিমতো পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে ইটভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং কৃষি জমি রক্ষা করার জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা লাইসেন্স ছাড়া ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করে, উর্বর কৃষি জমি, আবাসিক ও সংরক্ষিত এলাকার কাছে ভাটা স্থাপন বন্ধ করে, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন নিশ্চিত করা, যা আধুনিকরণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।
অথচ ইট ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ইট ভাটা, তবুও দেখার যেন কেউ নেই।
শিক্ষকদের অভিযোগ, স্কুলের সীমানার খুব কাছেই গড়ে তোলা হয়েছে ভাটাটি। যেখানে মৌসুমে কাঠ পুড়িয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এই ভাটার কালো ধোঁয়া আর উড়ে আসা বালি বিদ্যালয় ভবনে প্রবেশ করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে প্রায় সময় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আর ভাটার পাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাটা চালু হলে ঘরবাড়িতে ধুলা-বালির স্তুূপ পড়ে যায়। উঠান, বারান্দা, ঘরের ভেতর পর্যন্ত চলে যায় ধুলা-বালি। তাতে অসুবিধায় পড়তে হয় অনেককে। এমনকি ধুলা-বালির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু ও বৃদ্ধরা। এছাড়াও ভাটার পাশে রয়েছে সরকারী ইজারাভুক্ত মদনডাঙ্গা বাজার। এই বাজারের দোকানীদের ধুলা আর ধোয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আর এলাকায় বসবাসকারীরা প্রতিনিয়তই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষ কোন স্থাপনা, রেলপথ, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। এছাড়াও কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরির আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও কৃষিজমি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, স্থানীয় মিজানুর রহমান মধু ভাটাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভাটাটি বিদ্যালয় ও বসতবাড়ীর পাশেই হওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান ও বাড়িতে বসবাস করা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। স্কুলের পাশে ইটভাটা থাকায় ধোঁয়া ও বালুর কারণে জীবন অতিষ্ট। স্থানীয়রা এর প্রতিকার চান এবং ইটভাটাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ভাটা মালিক মিজানুর রহমান মধু জানান,সব কিছু ম্যানেজ করেই ভাটা পরিচালিত হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে লেখালেখি করে কিছুই করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা থাকাটা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মুন্তাসিরুল ইসলাম বলেন, ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় অভিযান চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত শৈলকুপার অবৈধ ইট ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।