আব্দুস সামাদ
শৈলকুপা ঝিনাইদহ সংবাদদাতা:
গতকাল বুধবার বিকাল চারটায় দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরীতে উঠার সময় প্রায় ৫০ জন যাত্রী সহ পানিতে পড়ে ডুবে যায়। এতে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০) ও শিশু পুত্র আর্শান জামান (৭ মাস) মারা যান।
পারিবার সূত্রে জানা যায়- প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ উদযাপন করার জন্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সহ ঈদের আগেই নিজেদের গ্রামের বাড়ি খন্দকবাড়িয়ায় আসেন। আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন শেষে গতকাল বুধবার তাঁরা নিজেদের কর্মস্থল ঢাকার আশুলিয়ায় ফিরে যাচ্ছিলেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে বেলা ২ টা ১০ মিনিটে তাঁরা কুমারখালী থেকে বাসে রওনা হন। আনুমানিক বিকাল ৪ টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে পৌঁছায়। এবং ফেরীতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৫০ জন যাত্রী সহ বাসটি নদীতে পড়ে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১ টায় ডুবন্ত বাসটি উদ্ধার করে। তখনো আয়েশা আক্তার সুমা ও তার শিশু পুত্র আর্শান জামানের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী রনি জানান- ডুবুরিরা রাত ২ টার দিকে আয়েশা আক্তার সুমা এবং রাত ৩ টার দিকে আর্শানের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে আয়েশা আক্তার সুমা ও তাঁর শিশু পুত্র আর্শান জামানের মরদেহ আয়েশার পিতার বাড়ি আশুলিয়ার নয়ার হাটে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
সুমার স্বামী নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও তাঁদের শিশু কন্যা মাওয়া (৪) বাসটি ঘাটে পৌঁছানোর পর বাস থেকে নেমে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে তাঁরা বেঁচে যান। কিন্তু বাসটি নদীতে ডুবে যাওয়ার পর থেকেই মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দে বিষাদ নেমে আসে। চতুর্দিকে স্বজনদের আত্মচিৎকার আর আহাজারিতে বাতাস ভারী হতে উঠে। লোকজন দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকলেও তাঁদের যেন কিছুই করার ছিল না। ভবিষ্যতে হয়তো প্রতিটি ঈদ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য আনন্দ নয়। যেন আতঙ্ক হয়েই দেখা দেবে।
জানা যায় নিহত আয়েশা আক্তার সুমা পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং তিনি সাভারের সি আর পি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
ডুবে যাওয়ার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে আনুমানিক ৫০ জন যাত্রী ছিল। যাঁদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সৌভাগ্যক্রমে ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী ডুবন্ত বাস থেকে বের হতে পেরেছেন এবং সাঁতরে জীবন রক্ষা করেছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঐ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশেরই বাড়ি কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলায়।
এ ঘটনায় বাসচালক আরমান খানও (৩১) নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালকুলা গ্রামে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মনিরুজ্জামান সুমন
মোবাইল :০১৯৩০-৫৫৬৩৪৩
ই-মেইল: 𝐬𝐮𝐦𝐨𝐧𝟔𝟑𝟑𝟔@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
৭১,পুষ্প প্লাজা (৪র্থ তলা) কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত