মোঃ মাসুদ রানা কুমিল্লা, জেলা প্রতিনিধি: এ বছর ঋতুরাজ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে। গতকাল পহেলা ফাল্গুনের আগমনে ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখতে হলুদ সূর্যের ঝিলিকে নিজেকে রাঙিয়ে তুলেছেন দর্শনার্থীরা। বসন্তের শুরুর মৃদু উষ্ণতায় প্রকৃতি যখন নতুন রঙে সেজে ওঠেছে, ঠিক তখনই বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে ফুটে ওঠা সূর্যমুখীর হলুদ সমারোহ যেন তৈরি করেছে এক অপার্থিক দৃশ্য। সূর্যমুখীর সোনালী হাসিতে মোড়ানো এই ক্ষেত এখন শুধু কৃষকের পরিশ্রমের ফল নয়, হয়ে উঠেছে মানুষের আবেগ, আনন্দ আর বিস্ময়ের এক মিলনমেলা। প্রতিদিনের মতো ভালোবাসা দিবস ঘিরে শনিবারও দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন এই সৌন্দর্য একনজর দেখতে। উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাসকান্দি গ্রাম সংলগ্ন সূর্যমুখী জমিতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
রবিবার দুপুরে গোমতী বেড়িবাঁধ সংলগ্ন দাসকান্দিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০০ শতক জমিতে সূর্যমুখী তার হলুদ আবরণ চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। অনেকে অটোরিক্সা করে আসছেন। ফসলী জমির আইল ধরে পরিপাটি পোশাকেও অনেকে আসছেন। জমিটির চারিদিকে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে ভেতরে প্রবেশের জন্য দুটি দরজা রাখা হয়েছে। জমির মাঝখানে উঁচু করে একটি মাচা পাতানো হয়েছে। এখান থেকে জমির কেয়ারটেকার চতুরদিকে নজর রাখছেন এবং একটু পর পর আগত লোকদের ফুল না ছিড়তে এবং দশ মিনিটের বেশি অবস্থান না করতে অনুরোধ করছেন। মাচায় উঠে দেখা গেল, অনেকে উৎসাহ নিয়ে নিজেকে ক্যামেরা বন্দী করছে, কেউবা প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে নিচ্ছে।দুই বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে আসা হাবিবুর রহমান জানান, এলাকায় বিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই। জায়গাটা অনেক সুন্দর তাই স্ত্রীকে নিয়ে ছবি তুলতে এসেছি। অনেক ভালো লেগেছে। টিকটকার নাছরিন আক্তার বলেন, এখানে এসে আমি ছবি তুলেছি এবং কয়েকটি ভিডিও বানাইছি”। মো. রুবেল রানা জানান, অত্র এলাকায় মানুষের সময় কাটানোর কোন স্থান নেই, সূর্যমুখীর বাগানে আসলে মনটা ভালো হয়ে যায়, তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু ঘুরতে এসেছি”। শিশু শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার বলেন, “খুব সুন্দর একটি দৃশ্য, সবায় এসেছে তাই আমি আমার বান্ধবীকে নিয়ে ছবি তুলতে এসেছি”। দেড় বছরের ছেলেকে নিয়ে আসা ফারজানা আক্তার বলেন, “সুন্দর একটি জায়গা, তাই ছেলেকে নিয়ে একটু ঘুরতে আসলাম। অনেক ভালো লেগেছে”।
জমির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মো. মামুন জানান, অনেকে ছবি ও ভিডিও করতে এসে লুকিয়ে ফুল নিয়ে যাচ্ছে। গত পনের দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ নষ্ট করে ফেলেছে। একটু পর পর হ্যান্ডমাইকে তাদের সর্তক করা হলেও তারা কর্ণপাত করছে না। অনেকে প্রচুর সময় দেয়, এতে জটলা লেগে যায়। এতে অন্যের সুযোগ নষ্ট হয় এবং ফুলেরও ক্ষতি হয়।
সূর্যমুখী জমির মালিক বিশিষ্ট কাপড় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ছোটবেলা থেকে ফুলের বাগানের প্রতি আমার ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ব্যস্ততা সেই আগ্রহ হারিয়ে গেছে। তবে কিছুদিন আগে আমি ইউটিউবে একটি প্রতিবেদন দেখে জমিতে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেয়। এলাকার মানুষ সেখানে গিয়ে একটু বিনোদন পাচ্ছে, এটা আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। জমিটি দেখার জন্য একাধিক লোক নিয়োগ করা হয়েছে। লোকজন যাতে সুন্দর করে ছবি এবং ভিডিও করতে পারে সেই জন্য তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কদমতলী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দাসকান্দিতে বপনকৃত সূর্যমুখী বীজটি হাইব্রিড জাতের। সূর্যমুখী জাতভেদে ৮৫ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে পরিপুক্ত হয়। বীজ বপনের প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হওয়ায় এবং ফুলের পরিপূর্ণতার হিসাবে কাঙ্খিত ফলন আশা করা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলার কদমতলী ব্লকে প্রায় ১০০ শতক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। তেলের জন্য সূর্যমুখীর অনেক উপকারিতা থাকলেও এটা বিশেষ করে মনের খোরাক যোগায়। কৃষক নিজে বীজ সংগ্রহ করেছিল তবে উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক কারিগরি সহযোগিতায় এটি চাষ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মনিরুজ্জামান সুমন
মোবাইল :০১৯৩০-৫৫৬৩৪৩
ই-মেইল: 𝐬𝐮𝐦𝐨𝐧𝟔𝟑𝟑𝟔@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
৭১,পুষ্প প্লাজা (৪র্থ তলা) কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত