1. live@www.dainikbangladeshkhobor.com : দৈনিক বাংলাদেশ খবর : দৈনিক বাংলাদেশ খবর
  2. info@www.dainikbangladeshkhobor.com : দৈনিক বাংলাদেশ খবর :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাংশায় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন  পাংশায় মিথ্যা চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন, মোছাঃ রেবেকা পারভীন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে মাদক ও সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশের মতবিনিময় সভা সোনামসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির বড় সাফল্য ভারতীয় ট্রাকসহ প্রায় ৬ হাজার বোতল মাদক সিরাপ জব্দ শৈলকুপায় চৈত্র সংক্রান্তি ও লোকজ উৎসব অনুষ্ঠিত  মাগুরায় ৭৯তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের ০৮ জন প্রশিক্ষণার্থী অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত নাচোলে ডিএনসির অভিযান: ৮০ লিটার চোলাইমদ ও ১৪০০ লিটার ওয়াশসহ নারী গ্রেফতার বিয়ের দাবিতে ৫ সন্তানের জননীর অনশন

শৈলকুপায় ৪০ টনি বালুর ড্রাম ট্রাকের তান্ডব: ধ্বংসের মুখে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু, প্রশাসন নির্বিকার!

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

এ.এস আব্দুস সামাদ ঝিনাইদহ বিশেষ প্রতিনিধি:– ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা গড়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং সেই বালু ৪০/৫০ টনের বেশি ওজনের ১০চাকার ড্রাম ট্রাকে করে পরিবহনের কারণে প্রামীণ সড়ক ও সেতু-কালভার্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে,ভেস্তে যাচ্চে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প। বিস্ময়করভাবে, স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে উদাসীন। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কাতলাগাড়ী, খুলুমবাড়ী ও মাঝদিয়া এলাকার ৩টি পয়েন্ট থেকে শুকনা মৌসুমে দিবানিশি গড়াই নদীর বালু উত্তোলন করা হয়। বালু উত্তোলনকারীরা তাদের কার্যক্রমকে বৈধ দাবি করলেও, বালু পরিবহনের পদ্ধতি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জনস্বার্থবিরোধী। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এসব রাস্তা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ টন ওজনের যান চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। অথচ বালুভর্তি প্রতিটি ড্রাম ট্রাকের ওজন ৪০/৫০ টন ছাড়িয়ে যাচ্ছে! এই বিশাল ওজনের ভার বহন করতে না পেরে হাইওয়ে বাদে অন্যান্য সব রাস্তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগের কারণ। এখন ভরা বর্ষা মৌসুমে রাস্তার পাশের মাটি নরম থাকায় এ সকল ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে দ্রুতই ধ্বসে যাচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে সংবাদকর্মীদেও পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সভা-সমিতিতেও এ নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, আজ পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নির্বিকার ভ’মিকা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে: কার স্বার্থে এসব অবৈধ কর্মকান্ড চলছে এবং কেন প্রশাসন নীরব দর্শক, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। শৈলকুপার গ্রামীণ সড়কগুলোতে অবৈধ বালুবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরপ্রশাসক ¯িœগ্ধা দাশের বক্তব্যে সচেতন মহলে তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন যে, “গ্রামীণ সড়কগুলোতে আমরা এই অবৈধ বালুর ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বালুরও প্রয়োজন আছে।” ইউএনওর এমন দ্বৈত মনোভাবাপন্ন বক্তব্য জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে তিনি অবৈধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন, অন্যদিকে বালুর প্রয়োজনীয়তার যুক্তি দেখিয়ে একপ্রকার দায়সারা মনোভাব প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল মনে করে, বালুর প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই অনস্বীকার্য, তবে এর মানে এই নয় যে অবৈধভাবে ও অপরিকল্পিত উপায়ে বালু পরিবহন করে গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। তাদের দাবি, একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে ইউএনওর এমন বক্তব্য জনদুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে বরং অবৈধ কার্যকলাপকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর একই জায়গা থেকে প্রতি বছর বালু উত্তোলন করলে নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ নদী পাড়ের ফসলি জমি, এমনকি ঘরবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিবেশের ওপর এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়াও, গ্রামীণ রাস্তায় ৪০ টনের বেশি ওজনের যান চলাচল করলে শুধু রাস্তাই নয়, পৌর এলাকার কুমার উপর ষাটের দশকে নির্মিত ব্রিজ সহ বিভিন্ন রাস্তা ও খালের ছোট-বড় ব্রিজ ও কালভার্টগুলোও ভেঙে পড়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন এবং অতিরিক্ত ওজনের যান চলাচল বন্ধে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় শৈলকুপার গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে, যার দায়ভার প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট